প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 27, 2026 ইং
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে সিদ্ধান্ত আসছে শিগগিরই

ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে নাকভি জানান, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি সব দিক বিবেচনায় নিয়ে সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি লেখেন, সব বিকল্প খোলা রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
এই বৈঠকটি হয় এমন এক সময়ে, যখন বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার পর পাকিস্তানের সম্ভাব্য বয়কট নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে অন্যত্র সরানোর অনুরোধ আইসিসি নাকচ করার পরই পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন করেছিল। এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসে পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা, যা বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। এর জেরে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ এবং বিশ্বকাপের ম্যাচ শ্রীলংকায় আয়োজনের দাবি তোলে বাংলাদেশ।
তবে আইসিসি শনিবার জানায়, ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টের এত কাছাকাছি সময়ে সূচি পরিবর্তন সম্ভব নয়। একই সঙ্গে সংস্থাটি দাবি করে, ভারতে বাংলাদেশের জন্য কোনো ‘বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি’ পাওয়া যায়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন মহসিন নাকভি। এ সিদ্ধান্তের পরই পাকিস্তানের সরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়।
দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটে এ ধরনের পরিস্থিতি নতুন নয়। গত বছর চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারত পাকিস্তানে খেলতে অস্বীকৃতি জানালে ‘হাইব্রিড মডেল’ অনুসরণ করা হয় এবং ভারতের ম্যাচগুলো দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৭ সাল পর্যন্ত কার্যকর ওই চুক্তি অনুযায়ী, পাকিস্তানও আইসিসি ইভেন্টে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলতে সম্মত হয়েছে। এবারের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ম্যাচ শ্রীলংকায় আয়োজনের কথা রয়েছে।
এই পুরো সময়জুড়ে পাকিস্তান বাংলাদেশের পাশে থাকার অবস্থান নিয়েছে। সর্বশেষ পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি জানিয়েছেন, তারাও বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়টি বিবেচনায় রাখছেন এবং সবকিছুই সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
এদিকে পাকিস্তানি গণমাধ্যমে আরও গুঞ্জন উঠেছে—বিশ্বকাপ পুরোপুরি বয়কট না করলেও গ্রুপপর্বে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে পাকিস্তান মাঠে নামবে কি না, সে নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সব মিলিয়ে ক্রিকেট ও রাজনীতির জটিল সমীকরণে পাকিস্তানের সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে ক্রিকেট বিশ্ব। শুক্রবার অথবা আগামী সোমবারের ঘোষণাই নির্ধারণ করবে বিশ্বকাপের পরবর্তী অধ্যায়।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ 69Bangla Tv